মাশরুম চাষ পদ্ধতি সহজে ধাপে ধাপে এই ভিডিওতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঘরে বসে মাশরুম চাষ শুরু করে কিভাবে তা একটি ব্যবসায় রূপ দেয়া যায় সে বিষয়েও বিভিন্ন কৌশল ও পরামর্শ এতে প্রদান করা হয়েছে।
মাশরুম উন্নয়ন ইন্সটিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে বাংলাদেশে মাশরুমের বিক্রি বেড়েছে ৪ গুণ।
বর্তমানে দেশে মাশরুমের বাজার ৮শ কোটি টাকার। বছরে উৎপাদন হচ্ছে ৪০ হাজার টন মাশরুম। বিভিন্ন ওষুধি গুণের কারণে উচ্চবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত মানুষেরাও মাশরুম খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছেন।
দেশের সুপারমার্কেট, অর্গানিক শপ, ই- কমার্স সাইট, এমনকি, ফেইসবুক গ্রুপে মাশরুম নিয়মিত কেনাবেচা হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় দেড় লাখ মানুষ মাশরুম চাষ ও বিপণনের কাজে যুক্ত আছেন।
মাশরুম চাষে ঝুঁকি কম, কিন্তু লাভ বেশি। সঠিক মার্কেটিং কৌশল জানা থাকলে যে কেউ বাড়িতেই মাশরুম চাষ করে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ তৈরি করতে পারেন।
জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কেন্দ্র (সাভার)
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
দেশজুড়ে স্থাপিত হর্টিকালচার সেন্টার
অনলাইন ভিডিও টিউটোরিয়াল
এসব জায়গা থেকে আপনি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাশরুমের spawn (স্পন) বা বীজ-ও সংগ্রহ করতে পারবেন।
ছায়াযুক্ত স্থান,
খড় বা ধানের তুষ,
মাশরুমের বীজ এবং
পানি স্প্রে করার জন্য একটি স্প্রে বোতল।
প্রথমে খড় বা তুষ ছোট ছোট করে কেটে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। তারপর জীবাণুমুক্ত করার জন্য গরম পানিতে বা ভাপে সেদ্ধ করতে হবে।
ঠান্ডা হয়ে গেলে, খড় বা তুষের সাথে মাশরুমের বীজ মিশিয়ে পলিথিন ব্যাগে ভরতে হবে। ব্যাগগুলো ভালো করে বেঁধে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।
কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাগের ভেতরে সাদা মাইসেলিয়াম দেখা যাবে। এরপর ছোট ছোট মাশরুম বের হতে শুরু করবে। নিয়মিত পানি স্প্রে করতে হবে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখতে হবে।
প্রথম ফসল ২০-২৫ দিনে সংগ্রহ করা যায়। মাশরুম সংগ্রহ করে কাঁচা মাশরুম খুচরা রেটে বিক্রি শুরু করুন।
কাঁচা মাশরুম স্থানীয় বাজারে সবজি হিসেবে বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া, পার্কের সামনে বা ফুটপাতে যেখানে মানুষ সকাল-বিকেল ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করেন তাদের কাছে বিক্রি করা যায়।
মাশরুম কেনাবেচার অনেক ফেইসবুক গ্রুপ রয়েছে। সেখানে মেম্বার হয়ে খুচরা রেটে মাশরুম বিক্রি করা যায়।
এবার আপনার মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের পালা। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনার বড় ক্রেতাদের খুঁজে পেতে হবে।
এক্ষেত্রে, স্থানীয় চাইনিজ রেস্ট্যুরেন্ট, হাসপাতালের ক্যান্টিন, ফাস্ট ফুডের দোকান, সুপারশপে যোগাযোগ করে পাইকারি রেটে মাশরুম বিক্রি করতে পারেন।
মাশরুমের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য আগ্রহী প্রতিবেশীদের মাশরুম চাষে যুক্ত করুন। তাদেরকে মাশরুম চাষের প্রশিক্ষণ দিন। মাশরুমের স্পন তৈরি করে তাদের কাছে বিক্রি করেও আয় বাড়াতে পারেন।
পাইকারি বাজার আপনার দখলে আসার পর আপনি আপনার মাশরুম ব্যবসাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার কথা ভাবতে পারেন।
ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই অনুমোদন প্রভৃতি সরকারি নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজের একটি ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠান তৈরি করুন।
এ পর্যায়ে আপনার পণ্যে বৈচিত্র আনুন। কাঁচা মাশরুমের চেয়ে প্রক্রিয়জাতকৃত শুকনো মাশরুম ও মাশরুম পাউডার আরও অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।
নিজের প্রতিষ্ঠানের ফেইসবুক পেইজ বা ওয়েবসাইট খুলে হোম ডেলিভারিরও ব্যবস্থা করতে পারেন।
শুকনো মাশরুম ধাতব কৌটায় বিদেশে রপ্তানি করা যায়। যেসব ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান বিদেশে সবজি/কাঁচা পণ্য পাঠায় তাদের সাথে যোগাযোগ করে বিদেশে মাশরুম পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব।
মাশরুম চাষ সহজ ও লাভজনক। আপনি কি মাশরুম চাষ শুরু করতে আগ্রহী? কমেন্টে জানান! এই আর্টিকেল ভালো লাগলে শেয়ার করুন।